**Shuchi**

| Posts: 312 |   | Karma: 6
|
পরম করুনাময় পৃথিবীতে একজন মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন। প্রেম -ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়া, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,ধ
ন-দৌলত, আরও অনেক কিছু । এই সব কিছুর মাঝেও মানুষের জীবনে যে জিনীষ না পেলে, জীবন একেবারে অপুর্নতা থেকে যায়, তা হচ্ছে একটি সন্তান এবং সেই সন্তানের মুখে মা বা বাবা ডাকটি । এই সন্তানের জন্য একজন মা বা বাবা অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন। নিজের জেদ, চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিতে কার্পন্য করেন না ।এমন কি সব চেয়ে বড় যে শত্রু, তার কাছেও সন্তানের মংগলের জন্য হাত পেতে কিছু চাইতে দ্বিধাবোধ করেন না। অনেক মানুষ আছেন একটি সন্তানের জন্য হাহাকার করে ফিরছেন,আল্লাহ এর দরবারে মাথাকুটে একটি বাচ্চা চাইছেন , তবুও আল্লাহ তার মনের এই আশা পুরন করছেন না। ঐ মানুটির কষ্ট সত্যিই কিন্তু আকাশকে ছুয়ে যায়, আরেক দিকে অনেক মানুষকে আল্লাহ সন্তান দিচ্ছেন কিন্তু সে সন্তান ভুমিষ্ট হবার আগেই তার বাবা মায়ের কারনে খুন হচ্ছে,এটা দেখে আমার কষ্টও আকাশ ছুয়ে যায়। প্রিয়ও পাঠক আজ আমার “আকাশ ছোয়া কষ্ট” গল্পটির শেষ হবে।জানিনা আমার প্রথম লেখা হিসাবে গল্পটি কেমন লেগেছে । ভাল লাগলে আমার কষ্ট কিছুটা সার্থক হবে । আপনারা সবাই সময় অপচয় করে আমার লেখে এই গল্পটি পড়েছেন (? ) সে জন্য আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা , ধন্যবাদ।
শেষ পর্ব
নিশি যখন বাচ্চাটাকে নিয়ে কয়েক কদম হেটে গেল, মঞ্জু ডাকতে গিয়েও পারল না...কোথায় যেন একটা বাধাঁ...।। তাকি রিতার কথা ভেবে ? মঞ্জু জানে না...কিন্তু ওতো রিতাকে একমুহুর্তের জন্যও মন থেকে মেনে নেইনি বা ভালবাসেনি...মঞ্জুর মনটা কেমন যেন করে উঠলো...।একটা গভীর দীর্ঘাশ্বাস ওর অজান্তে বের হয়ে এলো । মিলি নিশিকে ডাক দিল। মিলি- নিশি তুই কোথায় যাবি? তুই আর কোথাও যাবি না , মা বলেছে তোকে সঙ্গে নিয়ে যেতে, এখন থেকে তোর ও এই ছোট্ট সোনামনিটার দায়িত্ব আমাদের। তুই এখন থেকে আর মিজেকে একা ভাবিস না । আমি মা তোর সাথে আছি। নিশি- নারে আপু ,আমি তোর সাথে যাব না, আমি চাই না আমার বাচ্চা কারও বোঝা হয়ে হোয়ে থাকুক ।(অভিমানের সুরে ) নিশি কথাটা বলল ঠিকই , কিন্তু ও নিজেও জানেনা যে , এই সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চাটাকে নিয়ে কোথায় যাবে । এই ক’মাসে যে কষ্ট ও সহ্য করেছে, এমন কষ্ট ও চায়না যে ওর বাচ্চার জীবনেও নেমে আসুক । আর তাই অনেক অনিচ্ছা স্বত্তেও মিলির সাথে বাসাতে এলো ।
মা যেন বাচ্চাটাকে পেয়ে আকাশের চাঁদ পেলেন...ভীষণ খুশি হলেন । কি করবেন না করবেন ভেবে পাচ্ছেন না । বাড়ীতে প্রায় উত্সব শুরু হয়ে গেল...বাচ্চার চুল ফেলানো, কাপড়, খেলনা, দোলনা কেনা আরও কত কি যে করছে তার সীমা নেই...নিশি শত কষ্টের মাঝেও খুশি হল ।
আজ অনেকদিন পরে , নিশি একটু নিশ্চিন্ত মনে বাচ্চাটাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়েছিল । কলিং বেল এর শব্দ হতেই, নিশি দরজা খুলে দিল...দেখে মঞ্জু ...খুবই খুশি সে , হাত ভর্তি অনেক খেলনা ও বাচ্চাদের জিনীষ। কিন্তু মঞ্জুকে দেখে নিশি রেগে গেল......রাগত স্বরে বলল।। নিশি- মা বা মিলি কেউ বাসাতে নেই, তুমি পরে আসো...এইবলে দরজা দিতে গেল কিন্তু মঞ্জু হাত দিয়ে দরজা ধরে রেখেছে... মঞ্জু-নিশি আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই......প্লীজ আমার কথা শুনো। নিশি- আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাই না।।তুমি যাও(খুব রেগে গেল ) এবার দরজাটা মঞ্জুর মুখের উপর বন্ধ করে দিল......।নিশির খারাপ লেগেছে...তা প্রকাশ করল না। নিশি কোন ভাবে মেনে নিতে পারছে না যে, মাত্র এই ক মাসের ব্যবধানে মঞ্জু বিয়ে করে ফেলবে। ওদিকে রিতা বাসা থেকে চলে গেছে , যাবার সময় মঞ্জুকে একটা চিঠি লিখে গেছে...।
প্রিয় মঞ্জু, আমার ভালবাসা নিও...আমি জানি তোমাকে ভালবাসার কোন অধিকার আমার নেই , কিন্তু সত্যিই আমি তোমাকে খুব ভালবাসি...।আমার কি দোষ ছিল বল? তুমি কোনদিন আমাকে আমার যোগ্য অধিকার দাওনি......তবুও আশাতে ছিলাম , একদিন হয়ত তুমি আমার জন্য কিছুটা ভালবাসা না হোক কিছুটা ন্যায্য মর্যাদা দিবে...।কতটুকু দিয়েছ তা তুমি যান...যাই হোক আমার কষ্ট আমারই থাক। আমি তোমার আর নিশির মাঝে আর থাকতে চাই না , তাই চলে গেলাম । সময়মত ডিভোর্স পাঠিয়ে দিব...।তোমার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, তুমি তোমার হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা ফিরিয়ে এনো...।যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও তোমার সন্তানকে তোমার বুকে টেনে নিও...আমার কথা ভেব না । আমি ইনশাল্লাহ ভাল থাকব......তোমার জন্য দোয়া ও শুভ কামনা রইল... ইতি... রিতা চিঠিটা পড়ে মঞ্জুর খারাপ লাগল...।ও ভাবল , বাবা মা বা বড়দের কারনে তিন তিনটা জীবন নষ্টো হল । বড়রা মনে করে তাদের কথা মত কাজ করলে , সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে । আদৌতে কি তাই হয় কখনও? যে মনে একবার কারও জন্য সত্যিকার ভালবাসার জন্ম হয়, সে যত দুরেই যাকনা কেন, সে কখনও মন থেকে মুছে যায় না । আর তাই, কোন কিছুই মনের মানুষকে ছাড়া ঠিক হয় না । শুধু মনের মাঝে কিছুটা দাগ ফেলে যায়।মঞ্জু কি পারবে রিতাকে ভুলে যেতে?কি জানি মঞ্জু ঠিক জানে না। মঞ্জু আজ আবার নিশিদের বাসাতে গেল...ও নিশি এবং বাচ্চাটাকে না দেখে থাকতে পারছে না...।মঞ্জু ভেবে পায় না বাচ্চাটার জন্য ওর মনের মাঝে একটা অন্যরকম অনুভুতির জন্ম হয়েছে।। মিলি দরজা খুলে দিল...।।মিলি বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আদর করছে এবং বলল মিলি- দেখ মঞ্জু , পিচ্চিটা একদম তোঁর মত দেখতে হয়েছে......।সত্যিই মঞ্জু অভিভুত।একদম ওর কার্বন কপি...মঞ্জু হাত বাড়িয়ে সোনামনিটাকে কোলে নিল...কোত্থেকে যেন নিশি এসে ছোঁ মেরে বাচ্চাটাকে ওর কোল থেকে নিয়ে নিল......এবং বলল নিশি-(বেশ রাগত স্বরে )না এ বাচ্চা আমার ...। ওর উপর আর কারও কোন অধিকার নেই...।ও আমার মত দেখতে হয়েছে...এই বলে কাঁদতে কাদঁতে ভিতরে চলে গেল। মিলি ও মঞ্জু কি করবে ভেবে পেলো না ।কিছুক্ষন পরে মিলি বলল ... মিলি-মঞ্জু শোন, আমার মনে হয় তুই নিশিকে ফিরে পেতে চাস, তাই না? মঞ্জু নিচের দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল। মিলি-তাহলে এক কাজ কর, তুই ওর সাথে কথা বল ।কাল বিকালে আমি আর মা তোঁর ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। (একটু সময় নিয়ে ) আসলে তুই কিন্তু ওর উপর অনেক অন্যায় করেছিস, এখন যা করবার তোকেই করতে হবে। আমি আর মা ওকে বুঝিয়েছি। আমার মনে হয় তোরা কথা বল।
পরের দিন বিকাল । বাসাতে কেউ নেই নিশি একা । মা ও মিলি বাচ্চাটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছে ।এমনি চেকাপ করাতে। নিশি যেতে চেয়েছিল কিন্তু মা মিলি দুজনে বলল ওকে বাসাতে থাকতে । বাচ্চাকে ছাড়া ওর কিছু ভাল লাগে না...কেমন যেন একটা শুন্যতা অনুভব করে । নিশি বসে বসে ভাবছে , আজ যদি মঞ্জু থাকতো ওর পাশে , তাহলে বাচ্চাটাকে নিয়ে ওরা দুজন যেতো ।নিশির ভাগ্য অকে কথায় এনে ঠেকিয়েছে।নিশির অজান্তে একটা দির্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো। কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দিল। দেখে মঞ্জু । নিশি কেন জানি আজ কিছু বলল না । দরজার কাছথেকে সরে এল...মঞ্জু ওকে অনুসরন করল। নিশি ভিতরে চলে যচ্ছিল মঞ্জু ডাক দিল। মঞ্জু-নিশি আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই। মিলি- আমার তোমার সাথে কোন কথা নেই ।(নির্লিপ্ত জবাব ) মঞ্জু-(কি বলবে ভেবে পেল না বোকামি করল )ইয়ে রিতা চলে গেছে ...আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবে পরে । আমি তোমাকে ফিরে পেতে চাই। ব্যাস্ নিশি যেন তপ্ত শিখার মত জ্বলে উঠল ! নিশি-রিতা চলে গেছে তা আমি কি করব? আমি কি বলেছি রিতাকে, যে তুমি চলে যাও আমি মঞ্জুর কাছে যাব ।(একটু থেমে ) আমি তোমার কাছে ফিরে যাব এটা তুমি ভাবলে কি করে? মাত্র আট/ন মাসে তুমি বিয়ে করে ফেললে? একবারও আমার কথা তোমার মনে হল না? একবারও কি আমাকে খোঁজার প্রয়োজন করলে না? কোথায় আছি,কেমন আছি?(কান্নাজিড়িত কন্ঠ ) আমার কথা না হয় বাদই দিলাম ! তোমার রক্তের কথাও একবার ভাবলে না? স্বপ্নতো দুজনে মিলে দেখেছিলাম......তাহলে আমি একা কেন এতটা কষ্ট করলাম বলতে পার? (নিশি এক বারে সব কথা বলে শান্ত হলো । )মেয়েরা বোধ হয় এমনই হয়...ঠিক বরফের মত। প্রথমে শক্ত থাকে কিন্তু একটু তাপ লাগতেই গলতে শুরু করে । মঞ্জু কি বলবে ভেব পেল না তবু কিছুতো একটা বলতে হবে।।ওর মন বলছে এজ মোক্ষম সময় কথা বলার । যা হয় হবে কথা শেষ করতেই হবে...।।বেশ সাহস সঞ্চয় করে বলল। মঞ্জু-আমি তোমাকে খুজেঁছি, থানায় জিইডি করব বা পেপারে এড্ দিব , কিন্তু তোমাদের মানসম্মান এর কথা ভেবে তাও করতে পারিনি...আমি যে কি করেছি তা একমাত্র আল্লাহ জানেন...এদিকে মাও হার্ট এটাক করলেন...বড় ভাবি, বাবা - মা, ভাইয়া সবাই বিয়ে দেবার জন্য আমার উপর একটা চাপ সৃষ্টি করলেন। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না...(মঞ্জু কথাগুলো বেশ অপরাধির মত করে বলল ) নিশি-আর তাই বিয়ে করে ফেললে নাহ।।(ব্যঙ্গভরে বলল ) মঞ্জু একটা নিশ্বাস ফেলে বলল “আমি জানি তুমি আমার কোন কথা এখন বিশ্বাস করবে না...।না করারই কথা...।আমি একদিনের জন্যও রিতাকে বউ হিসাবে মেনে নেইনি”...তোমাকে আমি একমুহুর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারিনি...(কথাটা বলে নিশির দিকে এগোতে লাগল, নিশি দূরে সরে গেল )মঞ্জু আবার বলল “আমি তোমাকে আর আমাদের সন্তানকে ফিরে পেতে চাই , প্লিজ আমাকে ক্ষমা করো”।(হাত জোড় করে ) নিশি-এখন তোমার সন্তান না? যখন ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে কোথায় ছিল তোমার এই ভাবনা...?ছিঃ আমার ভাবতেও কষ্ট হয় যে আমি তোমাকে ভালবাসি...ছিঃ মঞ্জু কিছু একটা বলতে গেল কিন্তু নিশি হাত উচুঁ করে থামিয়ে দিল। ,

|