Flash news!
Latest Videos arrow BD-Forum
Donate For Bangladesh

Enter Amount:

CB Login
Main Menu
Latest Videos
BD-Forum
Bdbangla
Songs
Bangla Chat
Contact Us
Live Channels
.
Blogs
Privacy Policy
Bd-Natok.Com
BD-Natok-Home
Natoks
Telefilms
Bd-dramaserials.com
Bd-Dramaserials-Home
Drama Serials
AmaderBangladesh.com
Magazine-Home
Magazine Program
Close Up 1 2006
Musical Program
Religious
Ranna Banna
BDForum User Stat
25372 registered
11 today
48 this week
3220 this month
Last: jaguar_neo
Syndicate

Bd-forum  


<< Start < Prev 11 12 13 14 15 16 17 Next > End >>
Re:"CHOTPOTI O FUCHKA BILAS" !!!! - 2008/09/08 05:27
**Shuchi**

Posts: 312
graphgraph
Karma: 6

Click here to see the profile of this user 
ghuri apu salam....onek onek dhonnobad likhata boro kore debar jonno....4 u















ai likhatite besh banan bhul..tar jonno ami antorik bhabe dukkhito....r ami likhata edit o korte parchi na kono ekta bishesh karone...ami khoma prarthi.


The administrator has disabled public write access.

Re:"CHOTPOTI O FUCHKA BILAS" !!!! - 2008/09/12 20:59
**Shuchi**

Posts: 312
graphgraph
Karma: 6

Click here to see the profile of this user 
পরম করুনাময় পৃথিবীতে একজন মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছেন।
প্রেম -ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়া, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি,ধ ন-দৌলত, আরও অনেক কিছু । এই সব কিছুর মাঝেও মানুষের জীবনে যে জিনীষ না পেলে, জীবন একেবারে অপুর্নতা থেকে যায়, তা হচ্ছে একটি সন্তান এবং সেই সন্তানের মুখে মা বা বাবা ডাকটি । এই সন্তানের জন্য একজন মা বা বাবা অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন। নিজের জেদ, চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিতে কার্পন্য করেন না ।এমন কি সব চেয়ে বড় যে শত্রু, তার কাছেও সন্তানের মংগলের জন্য হাত পেতে কিছু চাইতে দ্বিধাবোধ করেন না। অনেক মানুষ আছেন একটি সন্তানের জন্য হাহাকার করে ফিরছেন,আল্লাহ এর দরবারে মাথাকুটে একটি বাচ্চা চাইছেন , তবুও আল্লাহ তার মনের এই আশা পুরন করছেন না। ঐ মানুটির কষ্ট সত্যিই কিন্তু আকাশকে ছুয়ে যায়, আরেক দিকে অনেক মানুষকে আল্লাহ সন্তান দিচ্ছেন কিন্তু সে সন্তান ভুমিষ্ট হবার আগেই তার বাবা মায়ের কারনে খুন হচ্ছে,এটা দেখে আমার কষ্টও আকাশ ছুয়ে যায়। প্রিয়ও পাঠক আজ আমার “আকাশ ছোয়া কষ্ট” গল্পটির শেষ হবে।জানিনা আমার প্রথম লেখা হিসাবে গল্পটি কেমন লেগেছে । ভাল লাগলে আমার কষ্ট কিছুটা সার্থক হবে । আপনারা সবাই সময় অপচয় করে আমার লেখে এই গল্পটি পড়েছেন (? ) সে জন্য আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা , ধন্যবাদ।

শেষ পর্ব

নিশি যখন বাচ্চাটাকে নিয়ে কয়েক কদম হেটে গেল, মঞ্জু ডাকতে গিয়েও পারল না...কোথায় যেন একটা বাধাঁ...।। তাকি রিতার কথা ভেবে ? মঞ্জু জানে না...কিন্তু ওতো রিতাকে একমুহুর্তের জন্যও মন থেকে মেনে নেইনি বা ভালবাসেনি...মঞ্জুর মনটা কেমন যেন করে উঠলো...।একটা গভীর দীর্ঘাশ্বাস ওর অজান্তে বের হয়ে এলো । মিলি নিশিকে ডাক দিল।
মিলি- নিশি তুই কোথায় যাবি? তুই আর কোথাও যাবি না , মা বলেছে তোকে সঙ্গে নিয়ে যেতে, এখন থেকে তোর ও এই ছোট্ট সোনামনিটার দায়িত্ব আমাদের। তুই এখন থেকে আর মিজেকে একা ভাবিস না । আমি মা তোর সাথে আছি।
নিশি- নারে আপু ,আমি তোর সাথে যাব না, আমি চাই না আমার বাচ্চা কারও বোঝা হয়ে হোয়ে থাকুক ।(অভিমানের সুরে )
নিশি কথাটা বলল ঠিকই , কিন্তু ও নিজেও জানেনা যে , এই সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চাটাকে নিয়ে কোথায় যাবে । এই ক’মাসে যে কষ্ট ও সহ্য করেছে, এমন কষ্ট ও চায়না যে ওর বাচ্চার জীবনেও নেমে আসুক । আর তাই অনেক অনিচ্ছা স্বত্তেও মিলির সাথে বাসাতে
এলো ।

মা যেন বাচ্চাটাকে পেয়ে আকাশের চাঁদ পেলেন...ভীষণ খুশি হলেন । কি করবেন না করবেন ভেবে পাচ্ছেন না । বাড়ীতে প্রায় উত্সব শুরু হয়ে গেল...বাচ্চার চুল ফেলানো, কাপড়, খেলনা, দোলনা কেনা আরও কত কি যে করছে তার সীমা নেই...নিশি শত কষ্টের মাঝেও খুশি হল ।

আজ অনেকদিন পরে , নিশি একটু নিশ্চিন্ত মনে বাচ্চাটাকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে
ঘুমিয়েছিল । কলিং বেল এর শব্দ হতেই, নিশি দরজা খুলে দিল...দেখে মঞ্জু ...খুবই খুশি সে , হাত ভর্তি অনেক খেলনা ও বাচ্চাদের জিনীষ। কিন্তু মঞ্জুকে দেখে নিশি রেগে গেল......রাগত স্বরে বলল।।
নিশি- মা বা মিলি কেউ বাসাতে নেই, তুমি পরে আসো...এইবলে দরজা দিতে গেল কিন্তু মঞ্জু হাত দিয়ে দরজা ধরে রেখেছে...
মঞ্জু-নিশি আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই......প্লীজ আমার কথা শুনো।
নিশি- আমি তোমার কোন কথা শুনতে চাই না।।তুমি যাও(খুব রেগে গেল ) এবার দরজাটা মঞ্জুর মুখের উপর বন্ধ করে দিল......।নিশির খারাপ লেগেছে...তা প্রকাশ করল না।
নিশি কোন ভাবে মেনে নিতে পারছে না যে, মাত্র এই ক মাসের ব্যবধানে মঞ্জু বিয়ে করে ফেলবে।
ওদিকে রিতা বাসা থেকে চলে গেছে , যাবার সময় মঞ্জুকে একটা চিঠি লিখে গেছে...।

প্রিয় মঞ্জু,
আমার ভালবাসা নিও...আমি জানি তোমাকে ভালবাসার কোন অধিকার আমার
নেই , কিন্তু সত্যিই আমি তোমাকে খুব ভালবাসি...।আমার কি দোষ ছিল বল? তুমি কোনদিন আমাকে আমার যোগ্য অধিকার দাওনি......তবুও আশাতে ছিলাম , একদিন হয়ত তুমি আমার জন্য কিছুটা ভালবাসা না হোক কিছুটা ন্যায্য মর্যাদা দিবে...।কতটুকু দিয়েছ তা তুমি যান...যাই হোক আমার কষ্ট আমারই থাক। আমি তোমার আর নিশির মাঝে আর থাকতে চাই না , তাই চলে গেলাম । সময়মত ডিভোর্স পাঠিয়ে দিব...।তোমার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, তুমি তোমার হারিয়ে যাওয়া ভালবাসা ফিরিয়ে এনো...।যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও তোমার সন্তানকে তোমার বুকে টেনে নিও...আমার কথা ভেব না । আমি ইনশাল্লাহ ভাল থাকব......তোমার জন্য দোয়া ও শুভ কামনা রইল...
ইতি...
রিতা
চিঠিটা পড়ে মঞ্জুর খারাপ লাগল...।ও ভাবল , বাবা মা বা বড়দের কারনে তিন তিনটা জীবন নষ্টো হল । বড়রা মনে করে তাদের কথা মত কাজ করলে , সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে । আদৌতে কি তাই হয় কখনও? যে মনে একবার কারও জন্য সত্যিকার ভালবাসার জন্ম হয়, সে যত দুরেই যাকনা কেন, সে কখনও মন থেকে মুছে যায় না । আর তাই, কোন কিছুই মনের মানুষকে ছাড়া ঠিক হয় না । শুধু মনের মাঝে কিছুটা দাগ ফেলে যায়।মঞ্জু কি পারবে রিতাকে ভুলে যেতে?কি জানি মঞ্জু ঠিক জানে না।
মঞ্জু আজ আবার নিশিদের বাসাতে গেল...ও নিশি এবং বাচ্চাটাকে না দেখে থাকতে পারছে না...।মঞ্জু ভেবে পায় না বাচ্চাটার জন্য ওর মনের মাঝে একটা অন্যরকম অনুভুতির জন্ম হয়েছে।।
মিলি দরজা খুলে দিল...।।মিলি বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে আদর করছে এবং বলল
মিলি- দেখ মঞ্জু , পিচ্চিটা একদম তোঁর মত দেখতে হয়েছে......।সত্যিই মঞ্জু অভিভুত।একদম ওর কার্বন কপি...মঞ্জু হাত বাড়িয়ে সোনামনিটাকে কোলে নিল...কোত্থেকে যেন নিশি এসে ছোঁ মেরে বাচ্চাটাকে ওর কোল থেকে নিয়ে নিল......এবং বলল
নিশি-(বেশ রাগত স্বরে )না এ বাচ্চা আমার ...। ওর উপর আর কারও কোন অধিকার নেই...।ও আমার মত দেখতে হয়েছে...এই বলে কাঁদতে কাদঁতে ভিতরে চলে গেল। মিলি ও মঞ্জু কি করবে ভেবে পেলো না ।কিছুক্ষন পরে মিলি বলল ...
মিলি-মঞ্জু শোন, আমার মনে হয় তুই নিশিকে ফিরে পেতে চাস, তাই না?
মঞ্জু নিচের দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ল।
মিলি-তাহলে এক কাজ কর, তুই ওর সাথে কথা বল ।কাল বিকালে আমি আর মা তোঁর ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব। (একটু সময় নিয়ে ) আসলে তুই কিন্তু ওর উপর অনেক অন্যায় করেছিস, এখন যা করবার তোকেই করতে হবে। আমি আর মা ওকে বুঝিয়েছি।
আমার মনে হয় তোরা কথা বল।

পরের দিন বিকাল । বাসাতে কেউ নেই নিশি একা । মা ও মিলি বাচ্চাটাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেছে ।এমনি চেকাপ করাতে। নিশি যেতে চেয়েছিল কিন্তু মা মিলি দুজনে বলল ওকে বাসাতে থাকতে । বাচ্চাকে ছাড়া ওর কিছু ভাল লাগে না...কেমন যেন একটা শুন্যতা অনুভব করে । নিশি বসে বসে ভাবছে , আজ যদি মঞ্জু থাকতো ওর পাশে‌ , তাহলে বাচ্চাটাকে নিয়ে ওরা দুজন যেতো ।নিশির ভাগ্য অকে কথায় এনে ঠেকিয়েছে।নিশির অজান্তে একটা দির্ঘশ্বাস বের হয়ে এলো। কলিং বেল বাজতেই দরজা খুলে দিল। দেখে মঞ্জু । নিশি কেন জানি আজ কিছু বলল না । দরজার কাছথেকে সরে এল...মঞ্জু ওকে অনুসরন করল। নিশি ভিতরে চলে যচ্ছিল মঞ্জু ডাক দিল।
মঞ্জু-নিশি আমি তোমার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।
মিলি- আমার তোমার সাথে কোন কথা নেই ।(নির্লিপ্ত জবাব )
মঞ্জু-(কি বলবে ভেবে পেল না বোকামি করল )ইয়ে রিতা চলে গেছে ...আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিবে পরে । আমি তোমাকে ফিরে পেতে চাই।
ব্যাস্ নিশি যেন তপ্ত শিখার মত জ্বলে উঠল !
নিশি-রিতা চলে গেছে তা আমি কি করব? আমি কি বলেছি রিতাকে, যে তুমি চলে যাও আমি মঞ্জুর কাছে যাব ।(একটু থেমে ) আমি তোমার কাছে ফিরে যাব এটা তুমি ভাবলে কি করে? মাত্র আট/ন মাসে তুমি বিয়ে করে ফেললে? একবারও আমার কথা তোমার মনে হল না? একবারও কি আমাকে খোঁজার প্রয়োজন করলে না? কোথায় আছি,কেমন আছি?(কান্নাজিড়িত কন্ঠ ) আমার কথা না হয় বাদই দিলাম ! তোমার রক্তের কথাও একবার ভাবলে না? স্বপ্নতো দুজনে মিলে দেখেছিলাম......তাহলে আমি একা কেন এতটা কষ্ট করলাম বলতে পার? (নিশি এক বারে সব কথা বলে শান্ত হলো । )মেয়েরা বোধ হয় এমনই হয়...ঠিক বরফের মত। প্রথমে শক্ত থাকে কিন্তু একটু তাপ লাগতেই গলতে শুরু করে ।
মঞ্জু কি বলবে ভেব পেল না তবু কিছুতো একটা বলতে হবে।।ওর মন বলছে এজ মোক্ষম সময় কথা বলার । যা হয় হবে কথা শেষ করতেই হবে...।।বেশ সাহস সঞ্চয় করে বলল।
মঞ্জু-আমি তোমাকে খুজেঁছি, থানায় জিইডি করব বা পেপারে এড্ দিব , কিন্তু তোমাদের মানসম্মান এর কথা ভেবে তাও করতে পারিনি...আমি যে কি করেছি তা একমাত্র আল্লাহ জানেন...এদিকে মাও হার্ট এটাক করলেন...বড় ভাবি, বাবা - মা, ভাইয়া সবাই বিয়ে দেবার জন্য আমার উপর একটা চাপ সৃষ্টি করলেন। কি করব ভেবে পাচ্ছিলাম না...(মঞ্জু কথাগুলো বেশ অপরাধির মত করে বলল )
নিশি-আর তাই বিয়ে করে ফেললে নাহ।।(ব্যঙ্গভরে বলল )
মঞ্জু একটা নিশ্বাস ফেলে বলল “আমি জানি তুমি আমার কোন কথা এখন বিশ্বাস করবে না...।না করারই কথা...।আমি একদিনের জন্যও রিতাকে বউ হিসাবে মেনে নেইনি”...তোমাকে আমি একমুহুর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারিনি...(কথাটা বলে নিশির দিকে এগোতে লাগল, নিশি দূরে সরে গেল )মঞ্জু আবার বলল “আমি তোমাকে আর আমাদের সন্তানকে ফিরে পেতে চাই , প্লিজ আমাকে ক্ষমা করো”।(হাত জোড় করে )
নিশি-এখন তোমার সন্তান না? যখন ওকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলে কোথায় ছিল তোমার এই ভাবনা...?ছিঃ আমার ভাবতেও কষ্ট হয় যে আমি তোমাকে ভালবাসি...ছিঃ
মঞ্জু কিছু একটা বলতে গেল কিন্তু নিশি হাত উচুঁ করে থামিয়ে দিল।
,


The administrator has disabled public write access.

Re:"CHOTPOTI O FUCHKA BILAS" !!!! - 2008/09/12 23:22
**Shuchi**

Posts: 312
graphgraph
Karma: 6

Click here to see the profile of this user 
মঞ্জু কিছু একটা বলতে গেল কিন্তু নিশি হাত উচুঁ করে থামিয়ে দিল।

নিশি-প্লীজ আমি আর কোন কথা শুনতে চাইনা, আমি তোমার মুখ আর দেখতে চাই না।। তুমি যাও আমার চোখের সামনে থেকে।
বেশ ঝাঝাল কন্ঠে কথাগুলো বলে নিশি ভিতরে চলে গেল । ঐ রাতে নিশি একটুও ঘুমাতে পারলো না ...শুধু মনে হতে লাগলো ওভাবে কেন মঞ্জুকে কথা গুলো বলল ও মঞ্জু তো অনেক কষ্ট পেল ওর কথাতে ।মঞ্জু যে ওকে ভিষণ ভালবাসে তাতে কোন রকম সন্দেহ নেই নিশির। তারপরও সব কিছু মেনে নিতে পারছে না ও। নিশির মনে পড়ল একদিনের কথা । মঞ্জু ওর হাত দুটো নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে বলল...
মঞ্জু-আচ্ছা নিশি প্রথমে তুমি কি চাও?মেয়ে না ছেলে?
নিশি-আমি...(একটু ভেবে ) আমি একটা সুন্দর ফু্টফুটে ছেলে চাই...।ঠিক তোমার মত, আমার মঞ্জুর মত । বলে নিশি খুব হেসে ছিল।
মঞ্জু-আমি কিন্তু প্রথমে মেয়ে চাই ।আর সে হবে ঠিক তোমার মত । আমার নিশি মনির মত(মঞ্জু নিশিকে ভালবেসে নিশিমনি বলে ডাকতো )আমি সোনাটাকে ভিষণ ভিষণ আদর করব। তোমার চেয়েও অনেক বেশি।
সাথে সাথে নিশি প্রতিবাদ করেছিল...
নিশি-না না আমার প্রথমে ছেলে চাই...।মেয়ে চাই না...।তাহলে আমি তাড়াতাড়ি বুড়ি হয়ে যাব যে ।(আহ্লাদি সুরে ) মেয়ে তাড়াতাড়ি বড় হয়ে যায়।তাই কোন মেয়ে না আগে, আগে ছেলে হবে ।
মঞ্জু ওর অবস্থা দেখে হেসেছিল আর বলেছিল
মঞ্জু-আরে মনে হচ্ছে আজ রাতেই তোমার মেয়ে হয়ে যাবে......।কি তাই নাকি...?(দুষ্টূমিভরা চাহনি ) নিশি বেশ লজ্জা পেল কথাটা শুনে ।মঞ্জু বুঝতে পেরে একটূ নিজের দিকে টানার বৃথা চেষ্টা করল মাত্র । নিশি ওকে ধাক্কামেরে বলেছিল...
নিশি-যাও ফাজিল কোথাকার...।আমার কাছে তোমাকে আসতে দিলে তো ।।(বলে জিভ বের করেছিল ) মঞ্জু ওকে ধরতে গিয়ে ওর চুল ধরে টান মেরেছিল।ওমনি নিশি মঞ্জুকে একটা আলতো কামড় বসিয়ে দিয়েছিল ওর হাতে ।কথাগুলো মনে হতেই নিশি হেসে দিল । তারপর বাচ্চাটাকে কোলের মাঝে টেনে নিল। নিশির কথাই ঠিক হয়েছে ওর কোল জুড়ে সুন্দর ফুটফুটে ছেলে শুধু মঞ্জু নেই পাশে।(নিশি বাচ্চাটাকে জড়িয়ে ধরে বেশ খানিক্টা সময় কেদেকেটে কখন যেন ঘুমিয়ে গেল )
সত্যি সত্যি মঞ্জু বেশ কিছুদিন নিশিদের বাসাতে আসল না। নিশির কেন যেন খারাপ লাগতে লাগল। ইদানিং মঞ্জুর আর নিশির অতিতের স্মৃতিগুলো শুধু মনে পড়ে যাচ্ছে নিশির। সেদিনের পর থেকে (যেদিন দুজন কথা কাটাকাটি করেছিল ) নিশি খুবই অস্থির দিন কাটাচ্ছে। কেন জানি মঞ্জুর সব কথা বিশ্বাস করতে নিশির মন সায় দিচ্ছে । কথা কাটা কাটি হওয়াতে ওদের মাঝের ভুলগুলোর অবসান হয়েছে । মানুষতো ভুল করতেই পারে ।অনেক সময় দেখা যায় আমি যেটা ভাবছি তা নাও হতে পারে আর তাই দুজনের মুখোমুখি বসে কথা বলে সব কিছু পরিস্কার হওয়া ভাল...এতেই সত্যিকার ভালবাসার প্রমান পাওয়া যায়, (ভাবল নিশি। ) মঞ্জুর প্রতি এখন আর তেমন রাগ নেই ওর । আসলেইতো , নিশিকে যদি মঞ্জু খোঁজার জন্য থানা পুলিশ বা পেপারে বিজ্ঞাপন দিত তাহলে ওদের মান সম্মান কোথায় থাকত । ওদের আত্বিয়স্বজন সবাই জেনে যেত ব্যাপারটা ।মঞ্জু ঠিক করেছে থানা পুলিশ না করে। আর রিতাকে বিয়ে করার পিছনে একটাই কারন ওর মাকে খুশি রাখা । নিশি বুঝলো মঞ্জুর থেকে ওর ভুলটা একটু বেশি ছিল।ওর ওভাবে চলে যাওয়া উচিত হহয়নি...।এখানে থেকে দুজনে মিলে একটা সুন্দর সিদ্ধান্ত নিতে পারত ।(এই সব ভেবে নিজেকে নিজে বোঝাতে লাগল ) আসলে নিশি আর পারছে না এই জীবন টেনে নিতে। নিশি জানে , ও যদি একটু নমনীয় হয় তাহলে ওর বাচ্চাটা একজন ভাল বাবা পাবে আর ওর একটা সুন্দর সংসার হবে । ও মঞ্জুকে যতটা চেনে তাতে মঞ্জু একজন ভাল স্বামী হবে এই আত্ববিশ্বাস নিশির আছে । ও মনে মনে ভাবল , মঞ্জুকে ও আরেকটা সুযোগ দিবে। একজন মানুষ ভুল করতেই পারে , আরেক জনের উচিত তার ভুলগুলো সংশোধন করে আরেকটা সুযোগ দেয়া । নিশি তাই করবে । করতে তাকে হবেই ! ওর জন্য না হোক, যে বাচ্চার জন্য ও এতোটা কষ্ট করল সেই বাচ্চার পিতৃ স্নেহ পাবার জন্য হলেও, নিশি মঞ্জুকে ক্ষমা করে দেবে।

আজ ১৫ই ফাল্গুন। আজকের এই দিনে মঞ্জু আর নিশি বিয়ে করেছিল। মা বাচ্চাটাকে নিয়ে খেলছে । সন্ধ্যা হতেই নিশি ছাদে গেল। আকাশে একটা বড় চাঁদ উঠেছে । যেন নিশিকে সুখের হাতছানিতে কাছে ডাকছে । নিশির মনে হল আজ জোস্নাটা যেন বেশি উজ্জ্বল। ও বুক ভরে নিশ্বাস নিল । বেশ সুন্দর একটা ফুলের গন্ধ পাচ্ছে । গন্ধরাজের গন্ধ । নিশির প্রিয় ফুল । ওর মনটা আজ বেশ ভাল লাগছে। নতুন করে সব কিছু ভাবতে ইচ্ছা হচ্ছে ।
নিশি অনেকক্ষন পুর্ণিমা চাঁদের দিকে তাকিয়ে আপন মনে কথা বলল । বিড় বিড় করে
বলল ।
“ মঞ্জু তুমি কোথায়? তোমাকে ভিষণ মনে পড়ছে ...।।আজ আমার হাতটি ধর, আমি সব কিছু ভুলে যাব...আমি তোমাকে অনেক অনেক বেশি ভালবাসি” নিশির দুচোখ যেন একটা সাগরে পরিনত হল। চোখ বেয়ে নেমে যাচ্ছে তার বিশাল জলধারা। নিশি অনুভব করল কে যেন ওকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরেছে......আর কানের কাছে ফিসফিস করে বলছে “আমি তোমারই ছিলাম তোমারই আছি...কয়েকটা দিন শুধু সাগর পাড়ি দিতে হল , আমার ভালবাসা পাবার জন্য, আমার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবার জন্য” । নিশি কিছু বলল না, শুধু ওর প্রিয় মানুষটার আদর আলিঙ্গন উপভোগ করতে লাগল। ওর চোখে ভেসে উঠল একটি দৃশ্য। নিশি আর মঞ্জু মাঝে ওদের ফুটফুটে ছেলেটি ফোকলা গালে মিষ্টি হাসি দিচ্ছে ।নিশি ওর নিজের মুখটি মঞ্জুর বিশাল বুকের মাঝে লুকিয়ে নিলো । ওদের সুখ সঙ্গম দেখে চাঁদ যেন হেসে কুটিকুটি...।।চারিদিক ে অনেক নাম না জানা ফুলের সুবাস । দূর থেকে ভেসে আসছে একটি গান...... “নিশি রাত বাকা চাঁদ আকাশে...চুপি চুপি বাঁশি বাজে বাতাসে......নিশি রাত”...।।

নিশির আরেকটি জীবন শুরু হল.......
আল্লাহ হাফেজ

বিঃদ্রঃ-যেকোন প্রতিভা দু/একদিনে সৃষ্টি হয় না।আমি সেই ছোট্র বেলা থেকে সাংষ্কৃতিকের সাথে জড়িত ছিলাম । আমি ছোটবেলাতে কচিকাচার আসর(রেডিওতে ) সহ বেশ কিছু অনুষ্টান করেছি। আমার বাবা ভাল একজন অভিনেতা ও গানের শিল্পী ছিলেন ।বোনেরা নাটক করতেন।বিয়ের পরে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। "এমিলের গোয়েন্দা বাহিণী" ছবিটিতে কিছুটা সময় অভিনয় করারও সৌভাগ্য আমার হয়েছে।(তখন খুব ছোট ছিলাম )আমি এই প্রবাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্টান করে থাকি(যদিও এখন কমিয়ে দিয়েছি সময়ের অভাবে ) মাঝে বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল । লেখালেখি করার জন্য যে উত্সাহ প্রয়োজন তা পেয়েছি বিডিবিতে খায়রুলের কাছ থেকে প্রথমে তারপর এই পরিবারের সবার কাছ থেকে। আপনারা জানেন যে আমার ভাবনা কাদেরকে নিয়ে, যাদেরকে নিয়ে কেউ ভাবেনা । তাদের কষ্টগুলো আমাকে কষ্ট দেয় আর তাই সেগুলোকে কবিতায় রুপ দেবার আপ্রান চেষ্টা করি। এখন দেখছি এটা কেউ পছন্দ করছেন না আর তাই ভাবনায় পড়েছি যে কি করব? আমি নিজের ঢোল নিজে পেটাতে পছন্দ করিনা তাই সেভাবে কখনো কিছু বলিনি।আজ প্রয়োজন বোধ করলাম বলার তাই বললাম। আমি নিজেকে কখনো বড় জ্ঞ্যানি মনে করিনি বা এখনও করিনা...আমার মাঝে কতটুকু প্রতিভা আছো আপনারাই ভালো জানেন। আমি শুধু সবাইকে ভিষণ ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি, আপন ভাবতে চেষ্টা করি । আপনারা যারা আমাকে ভুল বুঝেছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি আপনারা..হয়ত আমাকে বুঝতে পারেননি বা আমি আপনাদেরকে বুঝতে পারিনি ।আমাকে কেউ কিছুটা কষ্ট দিলে আমি ভিষণ কষ্ট পাই আর সে কষ্টটা যদি হয় প্রিয় কোন জায়গা থেকে তাহলে কষ্টটা চতুর্থগুন বেড়ে যায় । তবে তা আমার মনের আকাশকে ছুতে পারে না। পরম করুনাময় সবাইকে অনেক ধৈর্য্যশক্তি দিন এই কামনা করি। সবায় অনেক ভাল থাকবেন ।আল্লাহ হাফেজ। (বোধহয় বেশীই লিখে ফেললাম দুঃখিত )


The administrator has disabled public write access.