**Shuchi**

| Posts: 297 |   | Karma: 6
|
এই ছোট গল্পটি আমার লেখা প্রথম গল্প…।।গল্পটির সাথে কারো জ়ীবনের কোন ঘটনার সাথে মিল নেই…।।এটা সম্পুর্ন কল্পনাতে আঁকা…।গল্পটি আমি ধারাবাহিকভাবে আপনাদের মাঝে দেবার আপ্রান চেষ্টা করবো ।প্রিয় পাঠক বানান ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন দয়া করে। গল্পটি সম্পর্কে যেকোন মন্তব্য করলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো। ধন্যবাদ।
আকাশ ছোয়া কষ্ট (১ ) নিশি প্রায় উম্মাদ হয়ে গেছে।ওর নাওয়া খাওয়া কোনটাই হচ্ছে না। ও বুঝতে পারছে না এখন ওর কি করা উচিৎ বা ওর কথাগুলো সবাই কিভাবে নিবে । তবে এটা বুঝতে পারছে ও একটা বিরাট ভুল করে ফেলেছে । নিশি কাউকে কিছু বলছে না শুধু মন্জুর সাথে দেখা করার জন্য অস্হির হয়ে আছে । মন্জু, নিশিদের পাশের বাসার ছেলে। নিশির বড়বোন মিলি। ওর বিয়ে হয়ে গেছে স্বামি প্রবাসে । মিলি আর মন্জু একই কলেজে একই ইয়ারে পড়ে । সেই সুবাদে মন্জুর ওদের বাসায় যাতায়াত । একসময় এই মন্জুই ছিল নিশির সবচেয়ে কাছের মানুষ । ভালবাসার মানুষ । মিলি ও ওর মা চায়না নিশি মন্জুর সাথে দেখা করুক । ওর পাগলামি দেখে মিলি ও ওর মার ভিষন কষ্ট হয় । আজ আটমাস নিখোঁজ থাকার পর নিশি বাসাতে ফিরেছে। কোথায় ছিল?কেন পালিয়ে গিয়েছিল? কেউ কিছুই জানে না। নিশি কিছু বলছেও না । মিলি অনেক আদর করে নিশিকে কাছে নিয়ে বললোঃ- মিলি- নিশি, আপু কি হয়েছে তোর আমাকে বল ? নিশি(কান্না জড়িত কন্ঠে )- আপু রে !দয়া করে মঞ্জুর সাথে আমাকে একবার দেখা করতে দে। আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই। মিলি-কিন্তু ওর সাথে…মিলি কথা শেষ করতে পারল না ভাবল যদি সত্য শুনার পরে ও আবার পালিয়ে যাই । তাই চুপ করে কিছুক্ষন ভাবলো তারপর বললো- ঠিক আছে আমি মঞ্জুকে তোর কাছে নিয়ে আসব। তুই পাগলামি করিস না, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া কর । নিশির শুধু একটাই কথা “আপুরে আমি কিছু চাইনা , শুধু একবার আমাকে মঞ্জুর কাছে নিয়ে চল ।আমি তোদের সব বলব”নিশি যখন কথা বলছিল ভিশন কাঁপছিল। ও যেন সত্যি মিলির কথা বিশ্বাস করল । মাথা নেড়ে সায় দিল যে সে ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবে । কিন্তু খাবার নিশি মুখেও দিতে পারল না । আবার সেই পাগলামি আর জেদ, মঞ্জুর সাথে দেখা করার জন্য। মিলির খুব খারাপ লাগলো । সে জানে নিশির সাথে মন্জুর একটা প্রেমের সম্পর্ক ছিল । ওদের প্রেমের কথা সবাই জানে । মিলি ওর মাকে সব খুলে বলল যে নিশি মন্জুর সাথে দেখা করতে চায়। মা-(রেগে গিয়ে ) তুই ওকি ওর মত পাগল হয়ে গেলি ?মনে নেই সেদিনের কথা !যেদিন আমরা নিশিকে খুজে পাচ্ছি না, আমি পাগলের মত ছুটে গেলাম মন্জুদের বাসায় । আমার ধারনা ছিল নিশি ওর সাথে , কিন্তু যখন ওকে ওদের ওখানে পেলাম না তখন মঞ্জুকে বললাম “বাবা মঞ্জু তুমি একটু নিশিকে খুজে দেখ, ওদের বাবা নেই, বড় কোন ভাই নেই, তুমি একটু খুজে দেখ। কিন্তু ওর ভাবির জন্য ও ওর বাসা থেকে বের হতে পারল না বরং আমাকে অপমান করে ওর ভাবি বের করেদিল, ওর ভাবি বলেছিল নিশি কোন ছেলের হাত ধরে চলে গেছে আর মন্জু একবারও ঐ কথার প্রতিবাদ করল না । আমরা মানসম্মানের ভয়ে পুলিশে পর্যন্ত খবর করি নি । এই আটটা মাস নিশি কোথাই ছিল? কেন সে পালিয়েছিল ? এখনও আমরা জানি না। হায় খোদা !!এইদিন ও আমাকে দেখতে হলো ।(কথা বলতে বলতে মা কেঁদে দিলেন )। (একটু আশ্বস্হ হয়ে ) প্রথমে ভেবেছিলাম ঘরে ঢুকতে দিব না , কিন্তু মা হয়ে তাও করতে পারলাম না। (দির্ঘশ্বাস ফেলে ) মিলি- কিন্তু মা নিশিতো আমাদেরই পরিবারের মেয়ে । ওর ভালো মন্দ তো আমাদেরই দেখতে হবে । ওচাইছে মঞ্জুর সাথে দেখা করতে , দেখি মঞ্জুকে তাইই বলি। ও কি বলে, যদি দেখা না করতে চায় ঠিক আছে তখন দেখা যাবে । কিন্তু নিশির কষ্ট আমি সহ্য করতে পারছি না।(মিলি কেঁদে দিল ) মা আবারও দির্ঘশ্বাস ফেলে বললেন- দেখ যা ভালো বুঝিস কর । আজ তোদের বাবা বেঁচে থাকলে কি আমাদের এতো কিছু ভাবতে হতো? মিলি মায়ের কষ্টটা বুঝতে পারলো। বাবা মরে গেলে এই মাই আমাদের সব। আমাদের দুইবোনকে কখনো বাবার জন্য মন খারাপ করতে দেয়নি । অথচ মা নিজে অনেক কষ্টকরে আমাদের মানুষ করেছেন। বাবা মারা যাবার পরে সব আত্বীয়স্বজন, সবাই পাল্টে গেছে। এইমায়ের জন্য ওরা বেঁচে আছে । ওদেখেছে ওর মাকে কত কষ্ট, আর আত্বীয় স্বজনদের অপমান সহ্য করতে হয়েছে । মিলির চোখে পানি এসে গেল। মঞ্জু একসময় নিশিকে ভিষন ভালবাসতো । এক সময় কেন , এখনও ওকে অনেক ভালোবাসে। ওর সমস্ত সত্তা জুড়ে শুধু নিশি। ওদের ভালবাসার কথা মহল্লার সবাই জানে । তারপরও ওর বাবা মা বড় ভাই এর কারনে বিয়ে করতে হয়েছে। একবার ভেবেছিল দূরে কোথাও চলে যাবে কিন্তু মা স্ট্রোক করলো তাই বাধ্য হয়ে বিয়ে করলো ঠিকই কিন্তু ও একদিনের জন্যও নিশিকে ভুলতে পারেনি। নিশিকে মন থেকে মুছতে পারেনি। মানুষের জীবনে কিছু কিছু সময় আসে যখন অনেক কাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে করতে বাধ্য হয় । মন্জুর বাসার সবাই ভেবেছিল বিয়ে হলে মন্জু নিশিকে ভুলে যাবে , সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ।কিন্তু সত্যি সত্যি কি তা হয়? এক মাত্র ও জানে নিশি কেন পালিয়ে গেছে। নিশি যে ওকে না বলে এতবড় একটা কাজ করবে মঞ্জু ভাবেনি। রিতাকে ও বিয়ে করেছে ঠিকই কিন্তু একদিনের জন্যও তাকে বউ হিসাবে মেনে নেয়নি । রিতা নিশির কথা সব জানে। রিতা চায়নি এই বিয়ে করতে কিন্তু ওর আপুর(মঞ্জুর বড় ভাবি )জেদের জন্য রিতাকে সব জেনে শুনে মেনে নিতে হয়েছে। ওভেবেছিল বিয়ের পরে সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু কোনকিছুই ঠিক হয়নি। ওদের দুজনের সম্পর্ক একদম ভাল না। বাসার সবাই জানে তা । আজ তিন তিনটা জীবন নষ্ট হয়ে গেল । রিতা মনের দিক থেকে একটা ভাল মেয়ে কিন্তু ওর জীবনটা অলট পালট হওয়াতে মেজাজটা সব সময় খারাপ থাকে। বিষাদে ভরা ওর জীবন । এইসব নিয়েই ভাবছিল। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দ হতে উঠে দরজা খুললো। চোখে ভুল দেখছে নাতো? সামনে দাড়ানো মিলি। মিলি রিতাকে চেনে। বিয়ের আগে দুই একবার দেখেছে এই বাসাতে। মিলি-রিতা কেমন আছো?(খুবই নরম সুরে ) রিতা- (বেশ রুক্ষভাবে )জ্বী ভাল। কি চাই? মিলি ভীষন অবাক হল । ওকে ভিতরে পর্যন্ত ঢুকতে বলল না । মিলি একটু ইতস্তিত ভাবে বলল.. না মানে…মঞ্জু আছে বাসায়…? রিতা –(একই স্বরে )না ও বাসাতে নেই । মিলি-ঠিক আছে। মিলি ভীষন লজ্জা পেল রিতার ব্যবহারে। মানুষ কেমন করে একজন আরেকজনের সাথে এই রকম ব্যবহার করে তা মিলির জানা নেই। ও কখনো অমন আচরন করা শিখেনি। ও শিখেছে নিজের কষ্ট নিজের মনের মাঝে চেপে রেখে মানুষকে হাসি মুখ দেখাতে । ও বাসা থেকে বের হতেই মঞ্জুর বড় ভাইয়ের সাথে দেখা। মিলি –সালাম ভাইয়া। কেমন আছেন?(বিনয়ের সাথে ) ভাই-অলাইকুম আসসালাম। মিলি যে, আমি ভালো, তুমি কেমন ? মিলি-জ্বী ভাইয়া ভালো। কি যেন একটু ভেবে মিলি বললো- ভাইয়া, মঞ্জুর সাথে একটু দরকার ছিল । কিভাবে পাব ওকে? ভাই- ওর মোবাইল নাম্বার টা লিখে নাও। মিলি তাড়াতাড়ি ব্যাগ থেকে কাগজ কলম বের করে নাম্বারটা লিখে নিলো। এতক্ষন রিতার অপমান মনে করে ভিষন খারাপ লাগছিল এখন সব ভুলে গেল। খুশি মনে বাসায় গেল। দেখে নিশি একা একা কি যেন নিজের সাথে বলছে আর কাদঁছে। মা সামাল দিতে পারছে না ।নিশি মিলিকে দেখে একরকম দৌড়ে এলো । নিশি- আপুরে আমাকে মঞ্জুর কাছে নিয়ে চল! আমার বাচ্চাটা…..। কথা শেষ করলো না। কান্না থামিয়ে কি যেন বিড়বিড় করতে লাগলো আপন মনে । মিলি-নিশি আমাকে বলনা আপু কি হয়েছে তোর ?তুই কেন এমন করছিস্? নিশি- আমাকে মঞ্জুর কাছে নিয়ে চল তখন সব বলবো…(নিশি কেন যেন সত্য বলতে ভয় পাচ্ছে )…ও..ও ভীষন কষ্টে আছে…।ওকে ওরা মেরে ফেলবে…। (নিশি বিড়বিড় করে বলতে লাগলো )। মিলি- কাকে কারা মেরে ফেলবে ?কে খুব কষ্টে আছে? মিলি কিছুই বুঝতে পারছে না। মিলিকে বেশ অস্হির দেখালো । নিশি কোন কথার জবাব দিল না। মেঝেতে বসে পড়লো । ওর অবস্হা দেখে মিলির খুব খারাপ লাগলো । তবে এটা বুঝলো বড় ধরনের কোন কিছু ঘটেছে । মিলি-আমি মন্জুর মোবাইল নাম্বার এনেছি…… । মিলি কথা শেষও করতে পারেনি নিশি হাত পেতে চাইলো । নিশি-আপু দে ! তাড়াতাড়ি দে !!(ভীষন ব্যাকুল সে ) মিলি- না আমি রিং করি…তারপর তুই কথা বলিস…। নিশি-আচ্ছা ঠিক আছে…নিশি খুব খুশি হলো । মিলি রিং করল……ওপাশে মঞ্জুর গলা… মঞ্জু-হ্যালো…! মিলি নিশিকে ফোন দিলো। নিশি ফোন ধরলো ঠিকই কিন্তু কথা বলতে পারল না। এতদিন পর মঞ্জুর গলাটা ওর কাছে ভিষন অপরিচিত মনে হলো। মঞ্জু কিছুক্ষন হ্যালো হ্যালো করে রেখে দিল । চলবে

|